বিসিএস কর্নার

বিসিএস পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ন  টিপস, সাজেশন এবং কৌশল নিয়ে এই পেজটি সাজানো। 
লেখাগুলো বিসিএস পরীক্ষার সফল ব্যক্তিদের দ্বারা রচিত।


টিপস:
দরজায় কড়া নাড়ছে বিসিএস ৩৫তম প্রিলিমিনারি। আগামী ৬ মার্চ বেলা তিনটা থেকে শুরু হবে এ পরীক্ষা। পরীক্ষার শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। পরামর্শ দিয়েছেন ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম সুশান্ত পাল

আমি লেখাটি যাঁদের ‘প্রস্তুতি নেই’, ‘মোটামুটি’ ও ‘ভালো না’—এই তিন ধরনের পরীক্ষার্থীর জন্য লিখেছি। বাকিরা এড়িয়ে যেতে পারেন। এই এক সপ্তাহের ঘুমকে যদি কিছুটা ‘গুডবাই’ বলতে পারেন, তবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করে যেতে পারবেন। যে চাকরি পেয়ে অন্তত ৩০ বছর আরাম করবেন, সেটার জন্য ছয় রাতের ঘুম হারাম করতে পারবেন না! আপনার তো স্রেফ পাস করে একটা ‘ইয়েস কার্ড’ পেলেই চলে।

এ লেখাটি পড়ার পর থেকে আগামী ৩ মার্চ ‘মধ্যরাত’ পর্যন্ত যা করতে পারেন
১. প্রশ্ন ব্যাংক থেকে আগের বছরের বিসিএসের প্রশ্নোত্তরগুলো আরেকবার দেখে নিন।
২. প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সামনে রেখে কিছু সাধারণ জ্ঞানের ম্যাগাজিন বিশেষ সংখ্যা বের করেছে। পড়ে ফেলুন।
৩. যেকোনো ভালো একটা ডাইজেস্ট থেকে প্রশ্নোত্তরগুলোয় চোখ বুলিয়ে নিন।
৪. জব সলিউশন আগে পড়া থাকলে যতবার সম্ভব, ততবার দ্রুত রিভিশন দিন।
৫. যেসব প্রশ্নের উত্তর জানা নেই, সেগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। খুঁজে না পেলে খোঁজাখুঁজি করে সময় নষ্ট করবেন না। সব প্রশ্ন পারার কী দরকার? একটা কঠিন প্রশ্নেও যে নম্বর, সহজ প্রশ্নেও সেই একই নম্বর।
৬. এ সময়ে গাইড বইয়ের প্রশ্নোত্তর উল্টে-পাল্টে দেখতে পারেন, কিন্তু রেফারেন্স বই পড়বেন না।
৭. সম্ভব হলে বাইরে যাওয়া বন্ধ করে বাসায় সময় দিন। এ সময়ে পেপার পড়ে, খবর শুনে কোনো লাভ নেই।
৮.আগে যা যা পড়েছেন, সেগুলো আরেকবার দেখে নিন। শেষ মুহূর্তে পড়া জিনিস বেশি মনে থাকে।
৯. কে কী পারেন, আপনি কী পারেন না—এসব চিন্তা বাদ দিয়ে আপনি কী পারেন, সেটা নিয়ে ভাবুন। বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রায়ই ‘অতি পণ্ডিত’ লোকজনও ফেল করে!
৪ মার্চ সকাল থেকে ৫ মার্চ রাত আটটা পর্যন্ত যা করতে পারেন
১. মডেল টেস্টের দু-একটা গাইড থেকে দ্রুত যত সম্ভব, তত টেস্ট দিন। অন্য কাজ বাদ দিয়ে টার্গেট নিয়ে এ কাজটি করুন।
২. আগের পাঁচ দিন যা যা দাগিয়ে পড়েছেন, সেগুলো মন দিয়ে দ্রুত রিভিশন দিন।•
৩. কিছু কঠিন প্রশ্ন থাকে, যেগুলো বারবার পড়লেও মনে থাকে না৷ সেগুলো মনে রাখার চেষ্টা বাদ দিন৷ কারণ, এ ধরনের একটি প্রশ্ন আরও কয়েকটি সহজ প্রশ্নকে মাথা থেকে বের করে দেয়।
আরও কিছু কথা
সব প্রশ্নের উত্তর করতে যাবেন না ভুলেও, কিছু কিছু কঠিন আর বিভ্রান্তিকর বা গোলমেলে প্রশ্ন ছেড়ে দেওয়ার উদারতা দেখান। তবে মাথায় রাখুন, ১২টি প্রশ্ন ছেড়ে শূন্য পাওয়ার চেয়ে ছয়টি সঠিক করে তিন পাওয়া অনেক ভালো। এ ধরনের পরীক্ষাগুলোয় ভালো করার ক্ষেত্রে প্রস্তুতির চেয়ে আত্মবিশ্বাস বেশি কাজে লাগে৷ প্রশ্নে দু-একটা ছোটখাটো ভুল থাকতেই পারে৷ এটা নিয়ে মাথা খারাপ করার কিছু নেই৷
বৃহস্পতিবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে রাত নয়টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ুন৷ দুই ঘণ্টা মাথা ঠিক রাখার জন্য দারুণ একটা ঘুম অনেক সাহায্য করে৷ পরীক্ষার দিন সকালে আপনি যা যা ভালো পারেন, শুধু সেগুলোয় একটু অতিদ্রুত চোখ বুলিয়ে নিন। রাস্তায় কিছুই পড়ার প্রয়োজন নেই৷ টেনশন থাকবেই। পরীক্ষার আগে টেনশন করাটাও একটা সাধারণ ভদ্রতা! পরীক্ষার দিন সকালে বাসায় কিংবা রাস্তায় কিছুই পড়ার প্রয়োজন নেই৷ দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুন৷ আত্মবিশ্বাস রাখুন৷ রাস্তায় যানজট থাকতে পারে, তাই হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে বাসা থেকে রওনা হবেন, তাড়াহুড়ো করবেন না। আপনাদের জন্য শুভকামনা

শেষ মুহূর্তের কড়চা : ৩৫তম
লেখাটি যখন পড়ছেন, তার ঠিক দিন পর থেকেই পরীক্ষা শুরু। আমি পরীক্ষার্থী হলে সময়ে যা যা করতাম, এবং পরীক্ষার হলে যা যা করেছি, নিচে লিখে দিচ্ছি :

1. নিশ্চয়ই সাধারণ বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং বাংলা এখন না পড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে পড়ার জন্য রেখে দিতাম।
2.
কোন প্রশ্নটাতে কত সময় দেবো, সেটা প্রশ্নের গুরুত্ব এবং সময়বণ্টন অনুযায়ী ঠিক করে ফেলতাম।
3.
কে কী পড়েছে, সে খবর কিছুতেই নিতাম না। সময়ে মনমেজাজ খারাপ করার তো কোন মানেই হয় না।
4.
যা যা পড়েছি, তার তেমনকিছুই মনে থাকবে না, এটা মেনে নিতাম।
5.
পরীক্ষায় বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরই ওই মুহূর্তে মাথায় যা আসে তা-, কিংবা মাথায় কিছু না এলেও জোর করে এনে, লিখে দিয়ে আসতে হয়। তাই এতদিন যাকিছু পড়েছি, সেসবকিছুতে খুব দ্রুত চোখ বুলিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতাম, যাতে পরীক্ষার হলে কোন প্রশ্ন একেবারে আনকোরা মনে না হয়!
6.
পেন্সিল, কলম, রাবার, চৌকোনা স্কেল, ক্যালকুলেটর এসব গুছিয়ে রাখতাম। পরীক্ষার হলে কয়েকটাচালু কলমনেয়া ভাল। (আমি মূল খাতাটির পৃষ্ঠাগুলিতে চারদিকে মার্জিন করে, অতিরিক্ত পৃষ্ঠাগুলির চারদিকে ভাঁজ করে দিয়েছিলাম।)
7.
গড়ে প্রতি - মিনিটে এক পৃষ্ঠা লিখে, একজাম হলে সবার আগে আমিইলুজ শিটনেব, ব্যাপারটা মাথায় রাখতাম। লিখিত পরীক্ষা নিঃসন্দেহে ছোটবেলারযত বেশি সম্ভব তত বেশিলেখার পরীক্ষা।
8.
বাসা থেকে বের হওয়া, ফেসবুকে ঘন ঘন লগইন করা, কোচিংয়ে যাওয়া, অনাবশ্যক ফোনে গল্প করা, এসব মাথাতেও আনতাম না।
9.
লিখিত পরীক্ষা সুস্থ শরীরে মাথা ঠিক রেখে - ঘণ্টা না থেমে নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে এক নাগাড়ে উত্তর লেখার পরীক্ষা। তাই, পরীক্ষার আগের রাতে অবশ্যই খুব ভাল একটা ঘুম দরকার।
10.
প্রস্তুতি ভাল কিংবা খারাপ যা- হোক না কেন, পরীক্ষায় ভাল করার একটা সিক্রেট হল, একজাম হলেআই অ্যাম দ্য বেস্ট!’ ভাবটা যতক্ষণ পরীক্ষা দিচ্ছি ততক্ষণ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে ধরে রাখা। এটা সত্যিই ম্যাজিকের মত কাজ করে। আমার চাইতে কেউ বেশি পারে, কিংবা আমার চাইতে কেউ ভাল লিখছে, এটা মাথায় রাখলে আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। ভাল পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুতির চাইতে পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাসটাই বেশি কাজে লাগে।
11.
আমার অভিধানেআনকমন প্রশ্নবলে কিছু নেই। পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন না এলে বানিয়ে লিখে দিয়ে আসতে হবে, বানাতে না পারলে কল্পনায় আনতে হবে, কল্পনায় না এলে জোর করে কল্পনা করতে হবে। আমি উত্তর করছি না, এটা কোন সমস্যা না। সমস্যা হল, কেউ না কেউ সেটা উত্তর করছে।
12.
আমি বিশ্বাস করি, ভাল প্রস্তুতি থাকলেই যেমনি ভাল পরীক্ষা দেয়া যায় না, তেমনি খারাপ প্রস্তুতি থাকলেই খারাপ পরীক্ষা দেয়া যায় না। ফলাফল সবসময়ই চূড়ান্ত ফলাফল বের হওয়ার পর, আগে নয়। এর আগ পর্যন্ত আমি কিছুতেই কারোর চাইতে কোন অংশেই কম নই।
13.
আগে কী পড়িনি যা পড়া উচিত ছিল, সেটা নিয়ে মাথাখারাপ না করে, কী কী পড়েছি, সেটা নিয়ে ভাবতাম বেশি।
14.
লিখিত পরীক্ষায় এত দ্রুত আর এত বেশি লিখতে হয় যে মাঝে মাঝে লিখতে লিখতে মনে হয় যেন হাতের আঙুলের জয়েন্টগুলি খুলে পড়ে যাবে তবুও লিখেছি; ননস্টপ, আক্ষরিক অর্থেই। ওই - ঘণ্টাতেই ছিল আমার জীবিকার ছক গাঁথা। বিসিএস পরীক্ষা মূলত লিখিত পরীক্ষায় বেশি মার্কস পাওয়ার পরীক্ষা।
15.
সংবিধানের সব ধারা আমার মুখস্থ ছিল না, অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যউপাত্তও অত ভাল জানতাম না, মুখস্থবিদ্যা ছিল না, তবুও আমি চাকরি পেয়েছি। তবে আপনি পাবেন না কেন?
16.
সময়ে কিছু অভিনব প্রশ্নসমৃদ্ধটাচ অ্যান্ড পাসটাইপের সাজেশনস পাওয়া যায়। এসব থেকে ১০০ হাত দূরে থাকতাম, নিজের সাজেশনসের উপর নির্ভর করাই ভাল।
17.
যেসব প্রশ্ন বারবার পড়লেও মনে থাকে না, সেসব প্রশ্নকে আমি বরাবরই নিজগুণে ক্ষমা করে দিয়েছি। সবাই সবকিছু পারে না, সবকিছু সবার জন্য নয়।
18.
টেনশন থাকবেই। পরীক্ষা দিয়ে টেনশন করাটাও একটা সাধারণ ভদ্রতা। আমাকে না হয় কয়েকজন মানুষের প্রত্যাশার চাপ সামলাতে হয়, কিন্তু একজন সৌম্য সরকারকে তো অন্তত ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপ মাথায় রেখে খেলতে হয়। পারলে আমি কেন পারব না?
19.
বেশি পড়া হলে ভাল পরীক্ষা দেয়া যায়, এমনটা নাও হতে পারে। ভাল প্রস্তুতি নেয়ার চাইতে ভাল পরীক্ষা দেয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
20.
হাতের লেখা সুন্দর হোক বা না হোক, হাতের লেখা যাতে পড়া যায়। নীল কালিতে কোটেশন আর রেফারেন্স দিয়ে সবকিছু উত্তর করে হাতের লেখা সুন্দর রাখাটা রীতিমতো দুঃসাধ্য!
21.
কোন প্রশ্নের উত্তর কত পৃষ্ঠা লিখতে হবে, সেটা নির্ভর করে প্রশ্নটির নম্বর, গুরুত্ব, সময় আর আপনার লেখার দ্রুততার উপর। সময় সবার জন্যই তো সমান, এটার সঠিক ব্যবস্থাপনাই আসল কথা

এবার যা হয় হোক, পরেরবার একদম ফাটায়ে পরীক্ষা দিবএটা প্রতিবার পরীক্ষা দেয়ার সময়ই আপনার মনে হতে থাকবে। তাই নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে পরীক্ষা দিন। ভাগ্যে থাকলে এবারেই ক্যাডার হবেন




No comments: